বিশ্বব্যাপী হীরার দরপতন অব্যাহত

বিশ্বব্যাপী হীরার দাম বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যাপকভাবে কমছে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক হীরার দাম দুই বছর আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্বব্যাপী হীরার দাম বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যাপকভাবে কমছে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক হীরার দাম দুই বছর আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমে গেছে। কৃত্রিম হীরায় তা ৭৪ শতাংশে নেমেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম জিবি নিউজ।

লন্ডনের এক গহনা ব্যবসায়ী গত সপ্তাহে দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‌বর্তমানে হীরা খাতে বিনিয়োগ করা উপযুক্ত নয়। সামনের দিনগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির দাম আরো কমে যেতে পারে।’

২০২২ সালের মে মাসে এক ক্যারেট প্রাকৃতিক হীরার দাম ছিল ৫ হাজার ৪২২ পাউন্ড ৬৭ পেন্স (সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী ৬ হাজার ৭৩৪ ডলার ৯ সেন্টের সমান)। গত বছরের ডিসেম্বরে তা কমে ৩ হাজার ৯২৩ পাউন্ড ৮৩ পেন্সে (৪ হাজার ৮৭২ ডলার ৭৭ সেন্ট) নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও চীনের নিম্নমুখী চাহিদা হীরার দাম কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া কম বিয়ের হারও মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এসব কারণকে ছাড়িয়ে মূল্যবান ধাতুটির দামে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে কৃত্রিম হীরা। এটি বর্তমানে গহনা বাজারের প্রায় ৪৫ শতাংশ দখল করে আছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রতি ক্যারেট কৃত্রিম হীরার দাম ছিল ২ হাজার ৫৯৯ পাউন্ড ৩৮ পেন্স (৩ হাজার ২২৮ ডলার ১ সেন্ট)। বর্তমানে তা কমে ৭০০ পাউন্ড ৪৩ পেন্সে (৮৬৯ ডলার ৮২ সেন্ট) নেমে এসেছে।

লন্ডনের এক গহনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হ্যাটন গার্ডেনের ই কেটজ অ্যান্ড কোয়ের পরিচালক রবার্ট উইলিস বলেন, ‘গ্রাহক শুধু আংটির জন্য বড় অংকের অর্থ ব্যয় করছেন। আর কৃত্রিম হীরা প্রাকৃতিক হীরার তুলনায় আয়তনে বড় হয়। এ কারণে এটির চাহিদাও বেশি।’

হীরা শিল্পের জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম ডি বিয়ার্স। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ২০০ কোটি পাউন্ড মূল্যের অবিক্রীত হীরার মজুদ নিয়ে বছর শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি খনি থেকে হীরা উত্তোলন ২০ শতাংশ কমাতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি অ্যাংলো আমেরিকান (ডি বিয়ার্সের মালিক) ঐতিহ্যবাহী এ হীরা কোম্পানিটিকে বিক্রির সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এ সংকট বৈশ্বিক হীরা বাজার পতনের উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।

হীরা বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এডাহন গোলান জানায়, কভিড-পরবর্তী সময়ে বিলাসী পণ্যের উচ্চ চাহিদা তৈরি করেছিল। তবে বর্তমানে দ্রুত তা কমছে।

এদিকে কিছু হীরার বাজার বিশ্লেষক মনে করছেন, মূল্যবান ধাতুটির দামে সামনের দিনগুলোয় পুনরুদ্ধার ঘটতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে গহনা ইতিহাসবিদ জ্যাক অগডেন জানান, ১৭২৫ সালে ব্রাজিলে হীরা খনি আবিষ্কারের পর প্রাথমিকভাবে দাম দুই-তৃতীয়াংশ কমে গিয়েছিল। তবে ১৭৫০ সালের মধ্যে মূল্য আবার পুনরুদ্ধার হয়। এছাড়া ১৮৬৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় হীরা খনি আবিষ্কারের পরও দাম ঊর্ধ্বমুখিতা বজায় রেখেছিল।

তবে অগডেন সতর্ক করেছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমান বাজারের গতিবিধি ভিন্ন হতে পারে। কারণ কৃত্রিম ধাতুর উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে।

আরও